শ্রী মৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী জীবনী

ওঁ তৎ সৎ

=মুখবন্ধ=

মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,বাংলাদেশ এর পঞ্চম সভাপতি স্বর্গীয় আচার্য অনব কুমার দে।স্বর্গীয় পিতা-অনাথবন্ধু দে( অনাথবন্ধু দে বিশিষ্ট কর্ম্মী,আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয়ের বাল্যবন্ধু),সাং-চরকাদহ,জেলা-সিরাজগঞ্জ এবং শ্রী অনন্ত কুমার মাহাতো।বি এ(সম্মান),এম এ(ইতিহাস ও প্রততত্ত্ব) গ্রাম-পশ্চিম আটঘরিয়া,তাড়াশ,জেলা-সিরাজগঞ্জ। প্রয়াত আচার্য শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী আত্মজীবনী ক্রটিপূর্ন খসড়া আত্মজীবনী পশ্চিম আটঘরিয়া শাখা সজাশ্রমে অনুষ্ঠিত যোগকর্ম্ম অনুষ্ঠানে প্রকাশ করেন। যাহা আমি(বর্তমান অধ্যক্ষ) প্রয়াত আচার্য শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারীর ভগ্নি নমিতা,দিদি যোশদা,ভাগ্নেগন(অরুন,বরুন,তপন

,তাপস,অমল) সাহায্যে নিয়া এবং পশ্চিম আট ঘরিয়া শাখা সহজাশ্রমের সভাপতি শ্রীযুক্ত গোকূল চন্দ্র মাহতো,শ্রীযুক্ত নিহারঞ্জন সরকার,শ্রীযুক্ত যোগেন্দ্র নাথ মাহাতো বিশেষ অনুরোধ ক্রমে ক্রটিপূর্ন প্রয়াত শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারীর সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী যাহা শুদ্ধভাবে পূনঃ প্রকাশ করিলাম মাত্র।

প্রকাশক-

আচার্য শ্যামলকান্ত ব্রহ্মচারী।

অধ্যক্ষ,কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠ,কুঠিবাড়ী,ধুনট,বগুড়া।

মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,বাংলাদেশ।

তাং-২২-৯-২০২২ইং

১ম প্রকাশ কাল।

মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,বাংলাদেশ।

কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠ,কুঠিবাড়ী,ধুনট,বগুড়া।

তাং-২২-৯-২০২২ইং

আর্বিভাব দিবস- ২রা ফাল্গুন,মঙ্গলবার(১৫-২-১৯৪৯ইং)

তিরোধান দিবস-৫ই চৈত্র,রোজ-বুধবার(২০-৩-১৯ইং)

ওঁ তৎ সৎ

প্রয়াত আচার্য শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারীর সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনীঃ-

শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজ প্রতিষ্ঠিত “মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,বাংলাদেশ”এর দ্বিতীয় পরিচালক এবং “কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠ,কুঠিবাড়ী,ধুনট বগুড়া” এর মঠ অধ্যক্ষ ছিলেন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় “মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,বাংলাদেশ। শাখা সহজ আশ্রম” প্রতিষ্ঠিত করিয়া গিয়াছেন। প্রয়াত শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী মহাশয়ের মুখঃনিসৃত বানী ও কিছু দৈব ঘটনা বর্ননা করা হইল।

প্রয়াত শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী বাংলা ১৩৫৫ সন ২ রা ফাল্লুন (ইং ১৯৪৯ সনে ১৫ই ফেব্রয়ারী) রোজ-মঙ্গলবার সকাল ১১ ঘটিকায় ময়মনসিংহ জেলার অধিনে পাঁচ-কাওনিয়া গ্রামে,পোষ্ট-দাপুনিয়ায়  জন্ম গ্রহন করেন। তাঁহার বাবার নাম শ্রীযুক্ত ভীম চন্দ্র সাহা এবং গোত্র নাম ছিল আলীমায়ন। বাবা শ্রীযুক্ত ভীম চন্দ্র সাহা দুইটি প্রণয়ে আবদ্ধ হয়েছিলেন। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর নাম ছিল শ্রীমতি মৃনালিনী সাহা এবং দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর নাম ছিল শ্রীমতি সুবাসিনী সাহা। প্রথম পক্ষের স্ত্রী শ্রীমতি মৃনালিনী সাহার গর্ভে একটি মাত্র কন্যা জন্ম নেয় তাঁর নাম শ্রীমতি কুমুদিনীবালা সাহা। স্বামীর নাম স্বর্গীয় শ্রীযুক্ত রাধিকাকান্ত সাহা। তাঁর গর্ভে একমাত্র কন্যা নাম শ্রীমতি মুকুলরানী সাহা এবং পাঁচ ছেলে যথাক্রমে (১)শ্রীযুক্ত অরুন সাহা(২)শ্রীযুক্ত বরুণ সাহা (৩)শ্রীযুক্ত তপন সাহা(৪)শ্রীযুক্ত তাপস সাহা(৫)শ্রীযুক্ত অমল সাহা। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী শ্রীমতি সুবাসিনী সাহার গর্ভে তিন কন্যা এবং একমাত্র ছেলে যথাঃ-(১)শ্রীমতি মিনতি সাহা(২)শ্রীমতি নমিতা সাহা (৩) শ্রীমতি রঞ্জিতা সাহা। এবং এক মাত্র ছেলে শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী। দুই পক্ষের ভাই ও বোনেরা এবং ভাগ্নেরা যথেষ্ট তাঁহাকে সম্মান ও ভালবাসিত। তাহারা সকলেই প্রয়াত শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারীর নিকট দীক্ষা গ্রহন করেন।

তিনি ছেলেবেলা পাঁচ কাউনিয়াতে প্রাইমারী/মেশো মশাই শ্রীযুক্ত নিরোদবিহাড়ী সাহা ও শ্রীমতি রেনুকা রানী সাহা (মাসী) বাড়ী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় হইতে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল পড়াশুনা শেষ  করেন এবং ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজ হইতে এইচ.এস.সি পাশ করেন। তারপর পারিপারিক কারনে বাবার চাকরিস্থল বগুড়া জেলাধীন চন্দনবাইশা চলে আসেন এবং সেখানে চন্দনবাইশা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং বি এ পাশ করেন। ১৯৭১ইং সালে যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ(মুক্তিযুদ্ধ) শুরু হয় তখন তিনি ভারতে চলে যান এবং মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি বাড়ী ফিরে আসেন ,এসে দেখেন যে,বাড়ীর ভিটা মাটি ছাড়া আর কিছুই নাই।তিনি ভেবে চিন্তে আবার বগুড়া জেলাধীন গ্রামঃ-খাটিয়ামারি পোঃ-পাকুল্লা,থানাঃ-সারিয়াকান্দিতে মামা ননীগোপাল সাহা মহাশয়ের বাড়ীতে চলে আসেন। তিনি মামার বাড়ীতে আসার পর ভীষন অসুস্থতার জন্য ভীষন অর্থ সংকটে কবলে পড়েন। তিনি সুস্থতা লাভ করিলে মামা ননীগোপাল সাহা মহাশয়ের সঙ্গে ভূসিমালের ব্যবসা শুরু করেন। তাহাতে সাংসারিক সচ্ছলতা কিছুটা ফিরে আসে,তৎকালিন সময় এক বামপন্থি সংগঠনের রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং তাহাতে কয়েকবার পুলিশের হয়রানীতে শিকার হন। তারপর সে পরিবার পরিজনসহ পূনরায় ভারতে চলে যান। তারপর দীর্ঘদিন কোন খোজখবর পাওয়া যায় নাই।

হঠাৎ করে ১৩৮৪ সালে ২রা বৈশাখ মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজের তিরোধান দিবসে শ্রীযুক্ত বাবু যজ্ঞেশ্বর সাহা মহাশয়ের বাড়ীতে আগমন ঘটে। আমি(অনব কুমার দে) আমার আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয়কে মাঝে মধ্যে বলিতাম যে,আপনার অভাবে এই সংগঠনের দ্বায়িত্ব ভার কে গ্রহন করিবে। ২রা বৈশাখ সেই দিন যখন আমি শ্রীযুক্ত বাবু যজ্ঞেশ্বর সাহা মহাশয়ের বাড়ীতে কেন্দ্রীয় আশ্রম ঘরে প্রবেশ করি,ঠিক সেই সময় আচার্য নিখিল গোবিন্দ মহাশয় আমাকে বলিলেন যে,তুমি মাঝে মাঝে যে কথাটা বল,ঐ যে লাল গেরুয়া বসন ধারী যে,নবীন ব্রহ্মচারী আসিয়াছে,সেই পরর্বতী এই মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের হাল ধরিবে। আমি তৎক্ষনাৎ সভামাঝে যাইয়া দেখি, নবীন ব্রহ্মচারী সভা মাঝে পশ্চিম পার্শ্বে দাড়াইয়া বক্তব্য দিতেছেন। পরে জানিলাম উনার প্রকৃত নাম শ্রীযুক্ত নৃপেন্দ্রনাথ সাহা। পরে উনার নাম শ্রীমৎ নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী হয়। আমি প্রায় এক ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টা তাঁর বক্তব্য শুনিলাম। তারপর তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় আশ্রম ঘরে আমার প্রথম পরিচিতি ঘটে এবং অনেক কথা তাঁর সঙ্গে হয়। পরের দিন কর্ম্ম নেবার সিদ্ধান্ত হয় তখন আলোচনা সাপেক্ষে আচার্য ডা.সূর্য্যকান্ত সাহা মহাশয়ের নিকট(আচার্য শ্যামল কান্ত ব্রহ্মচারীর বাবা) যোগকর্ম্ম শিক্ষা নেবার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। আচার্য ডা.সূর্য্যকান্ত সাহা মহাশয় তৎকালীন সময় প্রথম মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের আট সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির প্রথম সভাপতি ছিলেন। আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় প্রথম মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের প্রথম পরিচালক ছিলেন। যথারীতি বাংলার ১৩৮৬ সালের ইং ১৯৮০সালের ৩১শে মার্চ ১৭ই চৈত্র রোজ সোমবার উত্তরফল্গনী নক্ষত্রে শুক্লা চৈত্র পূর্নিমাতে বগুড়া জেলাধীন,দুপচাচিয়া থানার অর্ন্তগত ভূগোল গ্রামের হরিবোলা সাধুবাড়ীতে বিকালে যোগকর্ম্ম ও আলোচনা অনুষ্ঠান হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত,আচার্য ডা.সূর্য্যকান্ত সাহা,শ্রীনিবাস সাধু,হরিবোলা সাধু,শ্রীযুক্ত নৃপেন্দ্রনাথ সাহা,শ্রীযুক্ত সুনীল চন্দ্র সূত্রধর(বর্তমানে বগুড়া,শিববাটি),শ্রীযুক্ত অভয়চরন বর্ম্মন(কানাই,রাজবাড়ী),ধীরেন মাষ্টার,কুটিল,যোগেন বর্ম্মন ছোট-চাটখইর রামপুরা,কুমুম্বী,আমসট্ট,

কেইৎ,সুজতা অত্র অঞ্চলের প্রায় ২০০জন কর্ম্মীবৃন্দের উপস্থিতি ঘটে।তারপর খুব ভোরে কিছু সংখ্যক কর্ম্মীবৃন্দ লইয়া আচার্য ডা. সূর্য্যকান্ত সাহা,শ্রীযুক্ত নৃপেন্দ্রনাথ সাহা,শ্রীযুক্ত সুনীল চন্দ্র সূত্রধর সহ বগুড়া জেলাধীন কাহালু থানার অর্ন্তগত পাইকড় গ্রামে শ্রীযুক্ত বানীকান্ত রায়ের বাড়ী অর্থাৎ (ছেলে ডা.কোমল চন্দ্র রায়,শ্রীযুক্ত কোকিল চন্দ্র রায়) চলে আসেন সেই দিন রোজ রবিবার সকাল প্রায় ১০ ঘটিকা সময় শ্রীযুক্ত নৃপেন্দ্রনাথ সাহা,শ্রীযুক্ত সুনীল চন্দ্র সূত্রধর সহ আচার্য ডা.সূর্য্যকান্ত সাহা মহাশয়ের নিকট ব্রহ্ম মন্ত্রে দীক্ষিত হন। তখন থেকেই তাঁর জীবনের আর্দশ পালটে যায়। ব্যবসার প্রতি অমনযোগী হয়ে উঠেন। তিনি ধীরে ধীরে মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজের আর্দশ যোগকর্ম্মে প্রতি আকৃষ্ট হন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার  শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজের স্মরনে সনাতন ধর্ম্ম সভা ও কর্ম্মি সম্মেলনে অংশ গ্রহন করেন এবং ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে যোগী,গীতিকার এবং সুরকার। তিনি আমাদের জন্য অনেক গান রচনা করেছেন এবং সুর দিয়েছেন। উনার গানগুলি হারিয়ে যাওয়ায় আমি(আচার্য শ্যামলকান্ত ব্রহ্মচারী)সংগ্রহ করে মাত্র দুইটি গান উল্লেখ করিলাম।

(১) মায়ের বিয়ে দেখবি যদি বাসনা থাকে।

আগে গিয়ে মূলাধারে জাগিয়ে লও মাকে।।

রেচক পুরক দুই বেহারা    প্রাণায়াম পালকিতে চড়া।

প্রণব দোলে দাও হে সারা           অতি জাকজোমকে।।

কর কন্যা দান বিবেকেরে           পুরুত কর মন ঠাকুরে।

বাদ্যযন্ত্র সদ্বৃত্তি                     সব বাজাও তুকে তাকে।।

ষটচক্র সব এয়ো ধর                পঞ্চতত্ত্ব   বর যাত্রী কর।

তুষ্ঠ কর বরকে                      সবে  ভক্তি যৌতুকে।।

অপান ধরে মাকে তোল             কুম্ভকে  যে পিতা এল।

মুনীঃপুরে  বিয়ের বাসর             এমন বিয়ে দেখবে কে ?

জীবানন্দ কয় নৃপারে                 অপান কষে  ধরনা জোরে।

এ বিয়ে তুই দেরে  বেঁধে        সাত পাকে।।

———————–ঃ————————

(২) সহজ সাধন এলো জগতে।

পেল এ ধন কলির জীব ভাই(২)   জীবানন্দের কৃপাতে কৃপাতে।।

ভজনের সার গীতার তত্ত্ব                  কুরুক্ষেত্রে পাইল পার্থ(২)।

পাইল অবিনাশী আত্মতত্ত্ব (২)            শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমুখেতে শ্রীমুখেতে।।

বসি সবে যোগাসনে                        মিলিয়ে দাও প্রাণ  অপানে গো(২)

দৃষ্টি রাখ ভ্রু-মধ্যে                        জিহ্বা রেখে তালুতে তালুতে।।

অপলক নেত্র ধরি                         মেরুদন্ড সোজা করি।

শ^াস প্রশ^াসে লক্ষ্য রাখ                   ত্বরিবে ত্বরিতে।।

সূর্য্যকান্তের আশীষ বানী                  নৃপারে তুই চলবি মানি গো।(২)

অশান্তী সব যাবে দুরে                     শ্রীগুরুর কৃপাতে কৃপাতে।

——————ঃ——————

তাহার পর কোন একদিন তাঁহাকে আমি(অনব কুমার দে) আমাদের বাড়ীতে অবস্থান করেন ঐ সময় আমি তাঁহাকে বলিয়াছিলাম যে,আপনি আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয়ের সংগে যোগ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেয়ে সব কিছু জানিয়া লইবেন কারন পরবর্তীতে আপনাকেই এই মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের হাল ধরিতে হইবে।এই ভাবে সংগঠনের এবং মঠের ঊন্নয়ন কাজে আত্ম নিয়োগ করিলেন।এই সময় সভাপতি ছিলেন শিক্ষক শ্রীযুক্ত হরিলাল মহন্ত তাহার সহযোগিতায় মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজ এর স্মৃতিসৌধ “কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠ” এর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেন। তৎকালীন সময় ৮৫০০০টাকা(পচাঁশি হাজার টাকা) ব্যায়ে শ্রীযুক্ত বাবু যজ্ঞেশ্বর সাহা মহাশয় দানকৃত ৪০ শতাংশ জমির উপর কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করিলেন এবং সংগে ছিলেন আচার্য নিখিলগোবিন্দ দত্ত,নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী,সভাপতি হরিলাল মহন্ত ও ডা.শ্যামল কুমার সাহা(বর্তমান কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠ অধ্যক্ষ) এবং বিনয়ভূষন সাহা(বাবু যজ্ঞেশ্বর সাহা মহাশয় একমাত্র ছেলে) ঐ দিন আমি(অনব কুমার দে) ছিলাম না। কিছুদিন মঠের উন্নয়ন কর্ম্মকান্ড চলার পর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় জীবানন্দের মঠের কর্ম্মকান্ড বন্দ হইয়া গেল। কোন একদিন কেন্দ্রীয় আশ্রমে যাবার পর জানিতে পারিলাম যে, ব্রহ্মচারী মহাশয়ের সংগে আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয়ের কিছু মতানৈক্য হইয়াছে ইহার কারনে কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠের কার্যক্রম বন্দ হয়ে যায়। সেই বিষয়টা লইয়া নিমগাছীতে যেয়ে স্বর্গীয় কর্নধর মাষ্টার  তারপর কার্ত্তিক দা(ভন্ডেণ্বর,আউলিয়াবাদ,টাঙ্গাইল),বিলকাজলীর ধীরেন কাকা সহ আমরা সবাই মিলে দুজনের মধ্যে একটা সমঝোতা করা হইল।তারপর থেকে সংগঠনের জন্য শ্রীমৎ নৃপেন ব্রহ্মচারী মহদয় বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠানে যাওয়া এবং বিভিন্ন আশ্রমে অবস্থান করা সহ কার্যক্রম হইতে থাকে।একসময় ছোট চাটখইর আশ্রমে দীর্ঘদিন তিনি অবস্থান করিয়াছিলেন এবং সেখানে পুকুর পাড়ে একটা আশ্রম মাটির ঘর নির্ম্মান সহ অনেক কর্ম্মকান্ডের সংঙ্গে জড়িত ছিল।কিন্তু সেখানে যাহা করিতে চাহিয়াছিল  তাহা পারিয়া চলে আসে কেন্দ্রীয় আশ্রমে।ঐ সময় সে কিছুদিন অসুস্থ হইয়া ছিলেন।তারপর আরোগ্য লাভের পর কোন একদিন আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় নৃপেন ব্রহ্মচারীকে জিজ্ঞাস করিলেন নৃপেন তোমার মায়ের খবর কি? তখন নৃপেন ব্রহ্মচারী বলিলেন“মা” দিল্লীতে জ্যাঠাতো ভাইয়ের কাছে আছে।তখন আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় বলিলেন,মাকে নিয়ে এসো,মাতৃসেবা ছাড়া তোমার সন্ন্যাস ব্রত ঠিক হবে না কারন তুমি তুমি একমাত্র পুত্র সন্তান তাঁর।তারপর তার মাকে আনার জন্য মনস্থির করিলেন।

এখানে একটা বিষয় লিখিতে ভূলে গেছি সেটা হল,নৃপেন ব্রহ্মচারী যখন প্রথম ২রা বৈশাখ শ্রীযুক্ত বাবু যজ্ঞেশ্বর সাহার বাড়ী এসেছিলেন তখন তার পরনে লাল গেরুয়া বসন,পায়ে চটি খরম। সর্বক্ষনিক খরম পায়ে চলাফেরা করিতেন। সে মাকে যখন আনার সিদ্ধান্ত হল,তখন তাহার মার ভরন পোষন কিভাবে করবে,তখন আচার্য নিখিলগোবিন্দ দত্ত মহাশয় বলিলেন,ময়মনসিংহ দেশের বাড়ী ভিটা মাটি বিক্রি করে যে ৫০/৬০টাকা হাজার পাবে তাহা দিয়ে মায়ের ভরন পোষন করবে। পরে ঐ টাকা দিয়ে নিমগাছীতে কিছু জমি কট রাখা হয়। তারপর দিল্লী থেকে মাকে নিয়ে ছোট বোনের বাড়ী সারিয়াকান্দিতে রাখিলেন আর ঐ জমির ধান বিক্রি করে টাকা তার বোনের বাড়ীতে পাঠাইতেন এবং মাঝে মাঝে মাকে দেখতে সেবা করার জন্য সারিয়াকান্দিতে যাইতেন কিন্তু ভাগ্যের কি নির্ম্মম পরিহাস। অল্লদিনের মধ্যেই তার ছোট বোনের স্বামী মারা গেলেন। তার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সহ ঐ সংসারের দ্বায়িত্ব ভার তাঁর মাথায় পরে গেল। তারপর থেকে ধীরে ধীরে তিনি গৃহ সন্ন্যাসী হইয়া গেলেন।কেন্দ্রীয় আশ্রমে তাকে থাকার কথা বললে সে বলিত মা যে কয়েকদিন আছে,সে কয়েকদিন  আমাকে সারিয়াকান্দিতেই থাকিতে হইবে। কিন্তু তিনি গৃহী সন্ন্যাসী হবার পরেও সংগঠনের কার্যক্রম থেকে বিরতী থাকেন নাই। এইভাবে তাঁর জীবনের গতিবেগ অন্য ধারায় শুরু হইল।

আমি (অনব কুমার দে) একসময় তাহাকে বলিয়াছিলাম যে,দাদা আপনি এরকম হইয়া গেলেন কেন? তখন সে আমাকে বলিয়াছিলেন,হ্যাঁ রে ভাই সাধনায় আমি আগে যা পেতাম এখন তা আর পাই না। তারপর “মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ” এর প্রথম পরিচালক আচার্য নিখিলগোবিন্দ দত্ত মহাশয় বাংলার ১৪০৫ সালে ইং ১৯৯৮ সালে ২৬শে জুলাই রোজ-রবিবার দিবাগত রাত ৯টা ৪১মিনিটে মহাপ্রয়াণ হইলেন। তারপর পর “মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ”এর  গুরুদ্বায়িত্ব নেবার কোন সাধু বা সন্ন্যাসী পাওয়া গেল না। এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি নিবাসী শ্রীযুক্ত সুনীল সূত্রধর বিভিন্ন সাধুদের বলিয়াছিলেন,এই প্রতিষ্ঠানের দ্বায়িত্ব ভার গ্রহন করার জন্য যেমন বিলকাজলী আচার্য ধীরেন কাকা,জ্যোতিষ মাষ্টার(পেচীবাড়ী),সতীশ সাধু,শ্রীযুক্ত নির্ম্মল দত্ত(আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত বড় ছেলে),শ্রীযুক্ত সুনীল কুমার সাহা,শ্রীযুক্ত শ্যামল কুমার সাহা(বর্তমান তৃতীয় পরিচালক ও অধ্যক্ষ জীবানন্দ মঠ)।নিবেদিত প্রাণ শ্রীযুক্ত সুণীল কুমার সাহা (দ্বিতীয় সেবাইত)ও শ্রীযুক্ত শ্যামল কুমার সাহা দুই ভাই কেন্দ্রীয় আশ্রমে আচার্য নিখিলগোবিন্দ দত্ত মহাশয়কে ইং ১৯৭৪ সাল থেকে দেখাশুনা ও পরিচর্যা করতঃ । এই দুই ভাই ব্রহ্মচারী ছিলেন সেই জন্যই সংগঠনের দ্বায়িত্বভার গ্রহন করার জন্য বলা হয় কিন্তু কেহই রাজী হলেন না। পরিশেষে আমি অনব কুমার দে(বর্তমান সভাপতি) নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী দাদাকে হাত ধরে এনে কেন্দ্রীয় আশ্রম প্রাঙ্গনে হাজির করিলাম এবং তাহাকে এই সংগঠনের পরিচালনা করার জন্য দ্বায়িত্ব নেবার কথা প্রস্তাব করাতে সকলেই একমত প্রসন করিলেন কিন্তু কিছু দ্বিমত থাকা সত্বেও শ্রীযুক্ত নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীকে “মানব ধর্ম্ম পরিচালক সংঘ” এর দ্বিতীয় পরিচালক ও জীবানন্দ মঠ অধ্যক্ষ পদে দ্বায়িত্ব ভার অর্পন করা হইল। তারপর থেকে তার কার্যক্রম শুরু হইল এবং কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠের উন্নয়ণমূলক কাজ নূতন করে শুরু হইল।

প্রথম পরিচালক শ্রীমৎ আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় দেহ ত্যাগের পর কেন্দ্রীয় আশ্রমের ষ্টিল আলমারী হইতে গচ্ছিত ৪৬ হাজার টাকা রেখে গিয়াছিলেন। আর ভারতের শ্রীযুক্ত পরিমল কুন্ড নামে বিশিষ্ঠ কর্ম্মী একলক্ষ টাকা স্বর্গীয় শ্রীমতি ঝর্না পাল দিদির মারফৎ  শ্রীযুক্ত নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর হাতে এসে যায়। এই দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠের টিন আটচালা শুরু করেন। এখান থেকেই তাঁহার মঠের উন্নয়ন মূলক কাজ শুরু করেন। এই ভাবে কিছুদিন যাবার পর হঠাৎ করে নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী মহদয় ধুনটের কর্ম্মী প্রতি অনুরাগ কম হয়ে যায় শুধু ২রা বৈশাখ তিরোধান উৎসবটা পরিচালনার ক্ষেত্রে মনোযোগী ছিলেন।এ ব্যাপারে তাকেঁ জিজ্ঞাসা করেছিলাম কিন্তু কোন উত্তর না দিয়ে নিরব থাকিতেন। তারপর থেকেই সে তার উত্তরসূরী হিসাবে চেষ্টা করিলেন,প্রথম দেউলি,লক্ষীীকোলা,বগুড়া নিবাসী পলাশ চন্দ্র দাস এম.এ.জি(বাংলাদেশ কৃষি বিদ্যালয়(ময়মনসিংহ) গবেষনাকারীকে নিয়ে ঐ সময় একটা কমিটি করা হয়েছিল। ঐ কমিটির সভাপতি শ্রীমৎ নৃপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী মহদয় ছিলেন কিন্তু প্রথম  সংবিধান নিয়ে কিছু মতানৈক্য হয় আমার সংঙ্গে তারপর সংবিধান সংশোধন করার সিদ্ধান্ত হয়ে সভার কার্য মূলতবী করা হয় তারপর আর কোন এ ব্যাপারে সভা হয় নাই। দ্বিতীয় চেষ্টা করলেন মহাপ্রসাদ কে নিয়ে কিন্তু সেটাও করিতে পারিলেন না। সব শেষে নিমগাছী আট ঘরিয়া শাখা সহজাশ্রম করার  নজর দিলেন । নিমগাছী কর্ম্মি ভাই-বোনদের ব্যবহার,শ্রদ্ধা এবং জ্ঞানের পরিধির উপর তিনি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে গেলেন। ঐ রূপ আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় তিনিও ধোড়া আশ্রমের প্রতি দুর্বলতা ছিলেন। এই সর্ম্পকে নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী মহদয়কে বলিয়াছিলাম আপনি কিন্তু মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠের কর্ম্মি এবং অধ্যক্ষ অতএব আপনার জীবনে সবকিছুই কিন্তু এই কেন্দ্রীয় জীবানন্দ নিয়ে,তিনি তার উত্তরে আমাকে বলে দিলেন যে,একদিন নিমগাছী কর্ম্মিরাই কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠকে বা সংগঠনকে ধরে রাখবে। জানি না তাঁর এই ভবিষ্যৎ বাণী কতটুকু বাস্তবে পরিনত হবে।

-ঃপশ্চিম আটঘরিয়ার শাখা সহজাশ্রম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ঃ-

(মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,বাংলাদেশ)

বাংলা ১৩৮৬ সনে চৈত্র মাসের শেষের দিকে শ্রীমৎ নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী ঢাকা জেলার সাভার থানায় কাকার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন সেখান থেকে বাস যোগে ফেরার পথে আরিচা নগর বাড়ি ফেরিতে নিমগাছী হাই স্কুলের শিক্ষক বি.এস.সি মনোরঞ্জন মাহাতোর সঙ্গে ফেরিতে পরিচয় হয়। তৎকালীন সময়ে এলাকার আদিবাসি সম্প্রদায়ের লোক হিসাবে সমাজে অবহেলিত ছিল। তখন গুরু দিক্ষা ছিল না বললেই চলে এবং ধর্মীয় শিক্ষা সর্ম্পকে অজ্ঞ ছিল।মানব ধর্ম সম্পর্কে পবন বি এস সি জানতে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং ফেরির মধ্যে মানব ধর্ম সম্পর্ক আলোচনা হয়। তখন পবন বি এস সি তাঁর বাসায় শ্রীমৎ নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীকে আসার জন্য অনুরোধ করেন। তখন ব্রহ্মচারী আগামী ২রা বৈশাখ মাসে শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজের তিরোধান অনুষ্ঠান অর্থাৎ বাং ১৩৮৭ সনে ধুনটে বাবু যজ্ঞেশ্বর সাহা মহাশয়ের বাড়ীতে গুরুজির অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রন করেন। ধুনটে কেন্দ্রীয় আশ্রমে পৌঁছিয়া “মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,বাংলাদেশ”প্রথম পরিচালক শ্রীমৎ নিখিল দত্ত মহাশয় কে এই ঘটনা সবিস্তারে খুলে বলেন। তখন শ্রীমৎ নিখিল দত্ত মহাশয় ঐ সময় “মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ,বাংলাদেশ” এবং ধুনট কেন্দ্রীয় আশ্রমের পরিচালক এবং গুরু দিক্ষা দান কারী ব্যক্তিত্ত্ব। তখন শ্রীমৎ নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় বলিলেন যে গুরুজি অর্থাৎ জীবানন্দ পরমহংস মহাশয়ের সাথে বাং ১৩৪৯ সনে পৌষ পূর্ণিমায় নিমগাছীর কাঞ্চনেশ্বর গ্রামে গিয়াছিলাম এবং সেখানে গুরুজী চার জনকে গুরুদীক্ষা প্রদান করেছি। তারা হলেন জগদীশচন্দ্র মাহাতো, সাধুচরন মাহাতো। মতিলাল চৌধুরী এবং মহেন্দ্র নাথ মাহাতো। শ্রীমৎ নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় শুনে আনন্দিত হয়ে এ কথাগুলো বলিলেন তার পরে বাং ১৩৮৭ সনে মনোরঞ্জন সরকার,চিত্ত রঞ্জন সরকার আর ভাটার পাড়া গ্রামের নরেশ চন্দ্র মাহাতো, ধুনটে বাবু যজ্ঞেশ্বর সাহা মহাশয়ের বাড়ীর ২রা বৈশাখ তিরোধান দিবসে গিয়ে শ্রীমৎ নিখিলগোবিন্দ দত্ত মহাশয়কে, চিত্ত সরকারের বাড়িতে(নিমগাছী,তাড়াস) আসার জন্য নিমন্ত্রন করে আসেন এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে শ্রীমৎ নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় এবং প্রথম আশ্রম সেবাইত শ্রী নিবাস সাধু,শ্রী নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী  সহ ঐ মাসে অর্থাৎ জৈষ্ঠ্য মাসের শেষ ভাগে মনোরঞ্জন বি.এস.সি এর বাসায় চলে আসেন এবং কয়েক দিন সেখানে অবস্থান করেন, ঐ সময় পশ্চিম আট ঘরিয়া কাঞ্চনশ্বর প্রায় ৫০ জনের মতো লোকজন দীক্ষা গ্রহন করেন এবং দীক্ষা দিয়ে শ্রীমৎ নিখিলগোবিন্দ দত্ত মহাশয় শ্রী নিবাস সাধুসহ ধুনট চলে যায় এবং শ্রী নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীকে নিমগাছীতে রেখে যায়। এ ভাবে এক সপ্তাহের অধিক সময় থেকে যোগ ব্যায়াম,গীতা গ্রন্থ,ধর্ম নিয়ে আলোচনা করে তিনি চলে  যান। তখন রাস্তা ঘাটের অবস্থা একদম ভালো ছিল না। জল কাদা পাড়ি দিয়ে আসতে হত। ঐ বছর অর্থাৎ ১৩৮৭ সনে ফাল্গুন মাসে পুনরায় নিমগাছীর পশ্চিম আট ঘড়িয়াতে কর্ম যোগ করার জন্য সবাই সম্মত পোষন করে। তৎকালীন সময়ে অধিকাংশ মানুষ ছিল গরীব। গ্রামের মানুষ আশ্রম গৃহ নির্মানের জন্য বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ,কাঠ,খড় সংগ্রহ করে পশ্চিম আট ঘড়িয়া শাখা সহজাশ্রম গৃহ নির্মান করা হয়। গ্রামের সকল যুবক ছেলে বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ চেয়ে আনার ফলে অনেক গুলো বাঁশ সংগ্রহ হয়। ঐ বাঁশ গুলোতে তাড়াশের বিনসাড়া হাটে বিক্রি করা হয়। সেই টাকা দিয়ে টিন কিনে ১৩ হাতের আশ্রম গৃহ নির্মান করা হয়। ঐ সময় মাসাধিক কাল থেকে শ্রীমৎ নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম গৃহ নির্মান করেন এবং নির্মান শেষে তিনি ধুনটে চলে যান। এভাবে বৈশাখের অনুষ্ঠান শেষে গ্রামের লোকজন দীক্ষিত করতে থাকেন। উত্তর উত্তর ভাবে কর্মির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ১৩৮৮ সনে এখানে প্রথম অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। সেহেতু জীবানন্দ মহারাজের পৌষ পূর্ণিমায় এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আলোচনা সভা করা হয় এবং ঐ সময় তারিখটি নির্ধারন করা হয়। সেই থেকে এখানে অনুষ্ঠান চলিয়া আসিতেছে। আশ্রম পরিচালনার জন্য কার্যকরী কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। এভাবে প্রতি বৎসর পৌষ পূর্নিমাতে অনুষ্ঠান চলে আসিতেছে এবং ভারত থেকেও স্বামী জীবানন্দ মহারাজ জীর শিষ্যরা এখানে আসেন।

শ্রীমৎ নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী আধ্যাত্মিক কর্ম্মকান্ডের কথা কিছু বলছিঃ-

(১)কোন একদিন ধুনট সদর তাঁহার কর্ম্মি শ্রী বাশুদেব শীল এর বাড়ীর উঠানে কর্ম্মযোগের অনুষ্ঠনে সকল কর্ম্মিবৃন্দ কর্ম্ম করিতেছি,হঠাৎ করে ভীষন মেঘের গর্জন এবং বৃষ্টি শুরু হল,সবাই আসন ছেড়ে উঠে পড়লো এবং বারান্দায় কর্ম্ম যোগ একত্রে শুরু হল কিন্তু ব্রহ্মচারী মহাশয় বাড়ীর উঠান থেকে উঠলেন না যার কারনে আমার উঠা হইল না। তারপর মনের অজান্তে কর্ম্ম ছেড়ে দিয়ে দেখি,আসরে সবাই বসে আমাদের দিকে তাকাইয়া  আছে, ব্রহ্মচারী মহদয় তার কিছুক্ষন পর কর্ম্ম ছেড়ে দিয়া আচার্য মুকুল চন্দ্র সাহাকে (ধুনট) বলেছিলেন,মুকুল কেনো কর্ম্ম ছেড়ে দিলে, আমি তো বসেই আছি এটা ঠিক করনি।একটা জিনিস জেনে রাখবে যে, সম্মুখে তোমার মৃত্যু,তুমি বুঝতে পারছ,তারপরেও তোমাকে পশ্চাতে আসা চলিবে না।তবেই তোমার কর্ম্ম করার সার্থক হইবে। এই কথার মর্ম্ম বড় কঠিন।

(২)নিমগাছী ধানী পূর্নিমার অনুষ্ঠানের একদিন পরেই আমার বাড়ীতে,আমার মায়ের শ্রাদ্ধক্রিয়া গীতা যজ্ঞের মাধ্যমে মনস্থির করিয়াছি।ঐ যজ্ঞে পৌরাহিত্য করিবেন শ্রীমৎ নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী মহাশয়।আমি যথারীতি যজ্ঞের আয়োজন করিলাম এবং নিমগাছীতে ব্রহ্মচারীর মারফৎ সকল কর্ম্মিদের নিমন্ত্রন করা হইল।কিন্তু শ্রাদ্ধের পূর্বদিন প্রকৃতি বিপক্ষে চলে গেল অর্থাৎ আকাশে কাল মেঘ ঝড়ো হাওয়া শুরু হইল।ঝড়বৃষ্টি মাথায় লইয়াই কিছু কর্ম্মীসহ আমার বাড়ীতে আসিলেন।রাত্রি দুই ঘটিকা হইতে মূষল ধারে বৃষ্টি শুরু হইল মনে হইতেছে আষাঢ় মাসের ঢল।সকাল বেলাও বৃষ্টি হইতেছে ঐ অবস্থায় ব্রহ্মচারীসহ সকল কর্ম্মী আমার বাড়ীতে আসিলেন এবং বৃষ্টি মধ্যোই তাঁর মাথায় ছাতা ধরা হইল,আর তিনি যজ্ঞের কুন্ড সাজাইলেন ঐ বৃষ্টির মধ্যেই আমাকে যজ্ঞে আহুতি দেওয়ার জন্য বসিতে বলিলেন।আমি বসিলাম,গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হইতেছে।কোন কর্ম্মি  বলিলেন,দাদা বৃষ্টি না পরিতেছে ?তখন তিনি বলিলেন আগে কর্ম্মযোগে বসো।তারপর যথারীতি কর্ম্মযোগের মাধ্যমে প্রাণ যজ্ঞ শুরু করিলেন ঐ দিন প্রথম দেখলাম শ্রীমদ্ভগবদ গীতার সাত শত শ্লোকে আহুতি দিয়ে কিভাবে যজ্ঞ হয়।আশ্চার্য্য বিষয় যজ্ঞ শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি থেমে গেল।আমাদের যজ্ঞানুষ্ঠান সহ কর্ম্ম সেবা যথারীতি সুসম্পন্ন হইয়া গেল। ব্রহ্মচারী দাদা বলিয়াছিলেন সাতদিনের মধ্যে আর বৃষ্টি হইবে না।কথাগুলি এই জন্যই বলিতেছি যে,তাঁহার সারা জীবনের সাধনা করা বস্তু দিলে শুধু আমাদের মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের প্রতি অক্লান্ত পরিশ্রম ও সেবা করেই গিয়াছেন আমরা তাঁর আর্দশ কতটুকু পালন করিতেছি এটাই ভাববার বিষয়।

(৩) তিনি কর্ম্ম নেবার পর কোন এক সময় সে ভারতে পরিভ্রমন করিতে গিয়াছিলেন। সেখানে মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের বিভিন্ন আশ্রমে গিয়াছিলেন। কোন এক দিন পশ্চিম বঙ্গের এক মহাশশ্মানে তিনি কর্ম্ম করিতেছিলেন,সন্ধ্যাবেলা কর্ম্ম যোগ শেষে দেখে ঐ এলাকার রাজার কর্ম্মচারীরা সেখানে উপস্থিত হয়েছে,নৃপেন ব্রহ্মচারী বলিলেন যে,আমি ভয় পেয়েছিলাম। কিছুক্ষন পর ঐ কর্ম্মচারীরা বলিলেন যে,রাজা মহাশয় আপনাকে ডেকেছেন,তারপর রাজার কাচারীবাড়ী নিয়ে গেলেন,সেখানে রাজা মহাশয় বলিলেন যে,আপনি যে কর্ম্মযোগ করিলেন এটা পাইলেন কোথা থেকে?ব্রহ্মচারী বলিলেন,বাংলাদেশে অবস্থিত বগুড়া জেলাধীন গ্রাম-ধুনটে মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের আচার্য নিকট এই যোগকর্ম্ম গ্রহন করিয়াছি। তখন রাজা মহাশয় বলিলেন,আমার গুরুদেব ত্রৈলক্ষ্য সাধু,তিনিও মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের কর্ম্মী ছিলেন। তিনি কর্ম্ম দেবার পর বনে গিয়াছেন আর কোন দিন আসেন নাই। কাজেই আপনি এখানে থাকিয়া যান,আপনার আশ্রম ঘরসহ সবকিছু করে দিব কিন্তু ব্রহ্মচারী তাহাতে রাজী না হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয়ের নিকট জানিতে পারিয়াছিলাম যে,ঐ ত্রৈলক্ষ্য সাধুর বাড়ী ছিল সিরাজগঞ্জ জেলাধীন রায়গঞ্জ থানার গ্রাম-ব্রহ্মগাছা। তিনি গৃহ ত্যাগ করিয়া ছিলেন। ত্রৈলক্ষ্য সাধু শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজের কাছে দীক্ষিত হয়েছিলেন।শ্রীমৎ নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী রাজার রাজ প্রাসাদ ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবির্পযয়ে কর্ম্মগুনে আমাদের জন্যই মায়ার জগতে প্রবেশ করিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

(৪)নৃপেন ব্রহ্মচারী মহদয় প্রতিষ্ঠিত করা টাঙ্গাইল জেলাধীন ভূয়াপুর পাঁচটিকড়ি শাখা সহজাশ্রম,মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ। কোন একদিন কর্ম্মী সম্মেলন হইতেছিল। ব্রহ্মচারী মহদয় ঐখানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্টানে রান্না শেষ হয়েছে।তাঁর কর্ম্মি প্রদীপ শীল বাড়ী আর ব্রহ্মচারী মহদয় সেখান থেকে কমপক্ষে দুইশত গজ দূরে একটা বাড়ীতে ছিলেন।দাদা প্রদীপ চন্দ্র শীল আমাকে বললেন দাদা রান্না করা শেষ লোকজন খেতে দিব ঠিক সেই সময় নৃপেন ব্রহ্মচারী মহশয় আসিয়া বলিতেছেন যে,এই প্রদীপ ডাল যে রান্না করিলি লবনতো দেওয়াই হয়।এই বলিয়া সে কিছু লবন আনিয়া ডালের মধ্যে দিয়া বলিলেন এটা নাড়চাড়া কর।তখন প্রদীপ মনে মনে ভাবিলেন যে,ব্রহ্মচারী দাদা এ কি করিলেন,লোকজন তো খেতেই পারবে না।কিন্তু খাবার সময় দেখা গেল যে,আসলে লবন দেওয়া হয়েছিল না।তখন থেকেই প্রদীপসহ পাঁটিকড়ি কর্ম্মী ভাই বোনেরা খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিল।নৃপেন ব্রহ্মচারী মহাশয় অধ্যত্ম বিষয় অনেক কিছু জানতো কিন্তু কাহারে কিছু বলতো না।এই রূপ ব্রহ্মচারী মহাশয়ের অনেক ঘটনা আমার জানা আছে কিন্তু তখন বুঝিতে পারি নাই।

(৫)আচার্য নিখিল গোবিন্দ দত্ত মহাশয় বলেছিলেন যে,“অনব রে ব্রহ্মচারীর কারনে বাবুর বাড়ী ধরে রাখতে পারিলাম না এবং ব্রহ্মচারী কারনে বাড়ীর উপরে পুরাতন কেন্দ্রীয় সহজ আশ্রম পাকা করা হইল না। কারন শ্রী বিনয়ভূষন সাহার বড় মেয়ে আশ্রমটা পাকা করে দিবে হঠাৎ করে নৃপেন ব্রহ্মচারী দাদা মিনতি বৌদির নিকট বলেছে যে,আশ্রম ঘর পাকা করা যাবে না কথা শুনে মনটা খুব খারাপ হইয়া গেল কিন্তু এখন বুঝিতে পারিতেছি যে,ঐ সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারন ঐ বাড়ীতে স্বর্গীয় বিনয়ভূষন সাহার কোন ছেলেই বসবাস করে না আর জায়গাটা সংগঠনের নামে রেজিষ্ট্রি করা না। অতএব তাঁহাদের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। (৬)আপনারা জানেন কিনা জানি না,তবে আমি বলিতেছি শুনন,নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী মহাশয় স্বামীজির দেওয়া এই বীজ মন্ত্র স্বপ্নযোগে পাইয়াছিলেন। যার জন্য সে তার জীবনে অনেক গুরুর নিকট হইতে দীক্ষিত হয়েছিলেন। কোথাও যেয়ে সে বেশী দিন থাকিতে পারেন নাই। শেষে মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘের মহযোগী শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজের এই বীজমন্ত্রে পাবার পর মনের সংগে লয় হওয়ার কারনেই তার শেষ জীবনে তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব্ব মূহুর্তেই সে মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ এর ২রা বৈশাখ তিরোধান উৎসব নিয়ে আমাকে বলিয়াছিলেন যে, যতদিন বেচে থাক উৎসবটি অবশ্যই করিবে। তিনিও এই উৎসব সম্বন্ধে ভাবিয়া গিয়াছিলেন।

—————-যবনিকা——————-