সংগঠনের পরিচয়

মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ, বাংলাদেশ

প্রাণাচার্য্য মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজ, ভগবান পরমপুরুষ শ্রীকৃষ্ণের মুখ-নিঃসৃত শ্রীমদ্ভগবদগীতার বাণী মানব জাতীর কল্যাণ উদ্দেশ্যে যে নির্দেশনা দিয়ে গিয়াছেন, মানব জাতীর মধ্যে তা প্রতিফলন করার জন্য বাংলাদেশের মধ্যে মানব জাতীর আধ্যাত্মিক প্রাণক্রিয়ার (যোগক্রিয়া) মাধ্যমে যোগ সাধনার সুকৌশল মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ, বাংলাদেশ এর যোগক্রিয়া কর্ম্মের মাধ্যমে প্রচার করে গিয়াছেন।

প্রতিষ্ঠা

০৯/০৪/১৯৭৯ ইং (২৬/১২/১৩৮৫ বাং) সালে কুঠিবাড়ী, ধুনট, বগুড়ায় প্রতিষ্ঠিত

প্রতিষ্ঠাতা

গৃহী শ্রী বাবু নৃপেন্দ্র সাহা মহাশয়ের সাহায্যে ও মহারাজের নির্দেশে

তাঁর প্রচারকালীন সময়ের মধ্যে বাংলা ১৩৬০ সালে ২রা বৈশাখ, গ্রামঃ ধুনট সরকারপাড়া, জেলাঃ বগুড়ায়, গৃহী শ্রীমৎ নিখিল গোবিন্দ মহাশয়ের বাড়ীতে তাঁর নির্দেহের মহাপ্রয়াণ ঘটে। তারপর কুঠিবাড়ী, ধুনট, উপজেলাঃ ধুনট, জেলাঃ বগুড়ায় ৬০ শতাংশ জমির উপর কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠ নামে একটি মঠ (যোগ সাধনালয়) স্থাপন করা হয়।

প্রতি বৎসর বাংলা সনের ২রা বৈশাখ এখানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্ত অনুরাগীদের আগমন ঘটে এবং মহারাজের তিরোধান দিবস পালিত হইয়া আসিতেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়কালীন ধর্মীয় অনুষ্ঠান — অন্নপ্রাশন, গীতাযজ্ঞ, শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী, প্রতি পূর্ণিমা অনুষ্ঠান, সাপ্তাহিক যোগকর্ম্ম অনুষ্ঠান, ২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ইত্যাদি উৎসব পালন করা হয়।

সংঘের উদ্দেশ্য

মানব জাতীর উৎকর্ষে প্রাণিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যোগ সাধনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চৈতন্যকে মানুষের শারীরিক, মানসিক আত্মগুণের উন্নতি সাধনের জন্য যোগক্রিয়া এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে এক ঈশ্বরকেই উপাসনা করা উচিত — এই শিক্ষা দিয়া প্রাণাচার্য্য মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজের মতাদর্শের উদ্দেশ্যকে সফল করার চেষ্টা করা হয়।

বর্তমানে “মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ, বাংলাদেশ” উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে ১০/১২ জন ব্রহ্মচারী আচার্যের মাধ্যমে প্রচার কাজ সংগঠিত হইতেছে। তাহাতে সংঘের কর্মীবৃন্দের সংখ্যা এবং সংগঠনের কলেবর বৃদ্ধি পাইতেছে।

সংঘের ইতিহাস

মহাযোগী জীবানন্দ মহারাজের ঘটনাবলী থেকে

প্রথম সাক্ষাৎ ও দীক্ষার কাহিনী
১৩৪৪ সনে জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে ধুনট থানার অধীন গুণ্ডিয়া গ্রামে জীবানন্দ মহারাজের আগমনের সংবাদ পেয়ে শ্রীমৎ নিখিল গোবিন্দ (পরবর্তীতে শ্রীমৎ স্বামী নিখিলানন্দ মহারাজ) নদী সাঁতার দিয়ে গভীর রাতে তাঁর কাছে যান। সেখানে ৫০/৫৫ জন লোক যোগকর্ম্মে রত ছিলেন এবং মহারাজ তাঁর আসন হইতে ৪/৫ ফুট উপরে স্থানের উপর যোগকর্ম্মে রত ছিলেন।
মহাপুরুষের চক্ষের দিকে যখন তাকালেন, একটি আলোর ঝলকানিতে তাঁর চোখ যেন ঝলসিয়া গেল — বিদ্যুৎ চমকের মত। তারপর মহাপুরুষ তাঁকে দীক্ষা দেন এবং ৪টি আসন শিখিয়ে নির্দেশ দেন ছয় মাস নিরামিষ নিয়মে একান্তে সাধনা করতে।
মহারাজ বলতেন — হাতী চলে যায়, কুকুর পিছনে ঘেউ ঘেউ করেই থাকে, হাতী ফিরে চায় না। — অর্থাৎ সাধকের পথে বাধা-বিপত্তি ও সমালোচনায় কখনো পিছু ফিরে তাকাতে নেই।
“শ্রীমদ্ভগবদগীতোক্ত যোগ সাধনা প্রণালী ‘সহজ কর্ম’ নামে জনসাধারণের মাঝে প্রচারের নিমিত্তে সুদীর্ঘকাল নিরলসভাবে শ্রম দিয়েছেন। তাঁর প্রচারিত ‘সহজ কর্ম’ মানব মাত্রেই সহজাত প্রাণ কর্ম।”

মহান ব্যক্তিত্ব

সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও পথপ্রদর্শকগণ

1

মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী ক্ষেপা জীবানন্দ পরমহংস মহারাজ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণাচার্য্য
পরমহংস প্রাণাচার্য্য শ্রীশ্রীমৎ স্বামী জীবানন্দ মহারাজ (অঘোরপীঠে স্বামী ক্ষেপা, নারা-সন্ন্যাসী, চুড়া ধারী বাবাজী নামেও পরিচিত) — তাঁর সাকিন নিত্যানন্দপুর, ডাকঘর বিষ্ণুপুর। তিনি বলতেন “নাম জীবানন্দ, জন্মভূমি বীরভূম, কালিকাপুর গ্রামে।”
শ্রীমৎ নিখিল গোবিন্দ (পরবর্তীতে শ্রীমৎ স্বামী নিখিলানন্দ মহারাজ, প্রথম পরিচালক মানব ধর্ম্ম প্রচারক সংঘ) তাঁর সাক্ষাৎকালীন ঘটনাবলীর পাণ্ডুলিপি থেকে জানা যায় যে, ১৩৩৪ সনে জ্যৈষ্ঠ মাসে পাবনা জেলার রায়গঞ্জ থানার অধীন ঝাপড়া গ্রামে প্রথমবার মহারাজের সাক্ষাৎ লাভ হয়। সেদিন মহারাজ ৮ দফা বিষয় লিখিয়া দেন যা পরবর্তীতে শ্রীমৎ নিখিল গোবিন্দ মহারাজের জীবনে হুবহু সত্য হইয়াছিল।
বাংলা ১৩৬০ সালে ২রা বৈশাখ ধুনটে তাঁর মহাপ্রয়াণ (তিরোধান) ঘটে। তাঁর প্রচারিত ‘সহজ কর্ম’ (প্রাণক্রিয়া/যোগক্রিয়া) মানব মাত্রেই সহজাত প্রাণ কর্ম।

2

শ্রীশ্রীমাঁতা নন্দ ঠাকুরানী

সহ-প্রচারক ও যোগসঙ্গিনী
মহাযোগী জীবানন্দ মহারাজের প্রচার কর্মে চিরসঙ্গিনী। তিনি মহারাজের সকল যোগযাত্রা ও প্রচার কাজে সর্বদা সঙ্গে থেকেছেন। মহারাজের শেষ প্রয়াণ দিবস পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিলেন এবং ‘মানব ধর্ম’ প্রচারে অবিরাম সহায়তা করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা সংঘের ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।

3

শ্রীমৎ নিখিল গোবিন্দ মহারাজ (শ্রীমৎ স্বামী নিখিলানন্দ মহারাজ)

প্রথম পরিচালক
মহাযোগী জীবানন্দ মহারাজের প্রিয় শিষ্য। ১৩৪৪ সনে জ্যৈষ্ঠ মাসে ধুনটে মহারাজের সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং দীক্ষা গ্রহণ করেন। মহারাজ তাঁকে ৪টি আসন শিখিয়ে ৬ মাস নিরামিষ নিয়মে থেকে সাধনা করতে নির্দেশ দেন। তিরোধান দিবসে তাঁকে ‘মহারাজ’ উপাধিতে ভূষিত করে সংঘের প্রথম পরিচালক নির্বাচিত করা হয়। আমৃত্যু তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন।

4

শ্রীমৎ নৃপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী

দ্বিতীয় পরিচালক ও মঠ অধ্যক্ষ
সংঘের দ্বিতীয় পরিচালক ও কেন্দ্রীয় জীবানন্দ মঠের অধ্যক্ষ। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য শাখা সহজাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১০/১২ জন ব্রহ্মচারী আচার্যের মাধ্যমে প্রচার কাজ সংগঠিত করেছেন। ১৯৪৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন।